সমাজ গঠন ও নিয়মকানুন তৈরি
🧩 সমাজ গঠন ও নিয়মকানুন তৈরি
🔹 সমাজ গঠন কীভাবে হয়?
সমাজ গঠন হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন অনুযায়ী একত্রে বসবাস করার একটি প্রক্রিয়া।
সমাজ গঠনের ধাপসমূহ:
-
মানুষের একত্রে বসবাস:
মানুষ সামাজিক জীব, একা বাঁচতে পারে না। তাই তারা দলবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করে। -
পরিবার গঠন:
প্রথমে ছোট পরিবার, পরে সম্প্রসারিত পরিবার সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলে। -
পেশাভিত্তিক বিভাজন:
কেউ কৃষক, কেউ শিকারি, কেউ কারিগর – কাজের বিভাজন সমাজকে জটিল ও সংগঠিত করে তোলে। -
সমাজে শ্রেণিবিন্যাস:
সময়ের সাথে সমাজে শ্রেণি ও অবস্থানের পার্থক্য গড়ে ওঠে – যেমন: পুরোহিত, যোদ্ধা, কৃষক ইত্যাদি।
🔹 নিয়মকানুনের প্রয়োজন কেন?
যেখানে একাধিক মানুষ একত্রে থাকে, সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম দরকার হয়।
নিয়মকানুন তৈরির কারণ:
-
সহজ সহাবস্থান:
মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে। -
দ্বন্দ্ব এড়ানো:
সম্পদ, সীমা বা কাজ নিয়ে ঝগড়া বা বিরোধ সমাধানে নিয়ম প্রয়োজন। -
ন্যায় ও শাস্তি নিশ্চিত:
অপরাধ বা অন্যায় হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন দরকার। -
সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা:
সবাই যেন নিজের দায়িত্ব বুঝে চলে।
🔹 প্রাচীন সমাজে নিয়মকানুন:
-
আদিবাসী সমাজে:
বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত হতো। প্রথা ও রীতিনীতি ছিল মুখ্য। -
লিখিত আইন:
সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে লিখিত আইন গঠিত হয়।
যেমন – হ্যামুরাবির বিধি, মনুসংহিতা। -
ধর্মীয় নিয়ম:
প্রাচীন সমাজে ধর্মভিত্তিক আচরণবিধি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখত।
🔚 উপসংহার:
সমাজ গঠন ও নিয়মকানুন তৈরির মাধ্যমে মানুষ একটি সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের ভিত্তি তৈরি করে। নিয়ম ছাড়া সমাজ অচল, আর সমাজ ছাড়া মানুষ অসহায়।
কোন মন্তব্য নেই