Header Ads

Header ADS

আইনের উৎপত্তি ও বিকাশ

 আইনের উদ্ভব (Origin of Law):

আইনের উৎপত্তি বা উদ্ভব মানব সভ্যতার সাথে জড়িত। মানুষ যখন সমাজবদ্ধ জীবন শুরু করে, তখনই নিয়ম-কানুনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়। সেই প্রাচীনকাল থেকেই আইন ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে।


আইনের উদ্ভব প্রধানত তিনটি পর্যায়ে ব্যাখ্যা করা যায়:

  1. প্রথা ও রীতিনীতির মাধ্যমে:
    প্রাচীন সমাজে লিখিত আইন না থাকলেও বিভিন্ন প্রথা, রীতিনীতি এবং সামাজিক চুক্তি বা অভ্যাস মানুষ মেনে চলত। এগুলোই ছিল প্রাথমিক আইন।

  2. ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মশাস্ত্রের মাধ্যমে:
    অনেক সমাজে ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় আদেশ-বিধান থেকেই আইন তৈরি হয়েছে। যেমন, মনুসংহিতা, বাইবেল, কোরআন প্রভৃতি থেকে অনেক আইন এসেছে।

  3. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাধ্যমে:
    রাষ্ট্র গঠনের পর শাসকরা আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো গড়ে তোলেন। এর ফলে আইন এক সুসংবদ্ধ রূপ পায়।


আইনের বিকাশ (Development of Law):

আইন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত ও পরিপূর্ণ হয়েছে। এর বিকাশ কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়:

  1. প্রাচীন আইন:
    হ্যামুরাবির সংহিতা (Babylon), মনুসংহিতা (ভারত), রোমান আইন ইত্যাদি প্রাচীন আইনের উদাহরণ।

  2. মধ্যযুগীয় আইন:
    এই সময় ধর্মের প্রভাব বেশি ছিল। যেমন: শরিয়া আইন, ক্যনন আইন (খ্রিস্টান ধর্মের ভিত্তিতে)।

  3. আধুনিক আইন:
    আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে আইন আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং মানবাধিকারের প্রতিফলক হয়েছে।

  4. আন্তর্জাতিক আইন:
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইন জোরদার হয়।


উপসংহার:

আইন মানব সমাজের জন্য অপরিহার্য। এটি সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার এবং সাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আইনের উদ্ভব, রূপ এবং প্রয়োগেও পরিবর্তন এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.